বাজারে আসছে উড়ুক্কু মোটরসাইকেল

কল্পকাহিনি নয়, বাস্তবের দুনিয়ায় চলে আসছে উড়ুক্কু বাইক। এ বছর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি শুরু হবে ব্যক্তিগত উড়ুক্কু যন্ত্রের। কিটি হক নামের একটি মার্কিন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে উড়ুক্কু মোটরসাইকেলসদৃশ এ যন্ত্র। নাম দেওয়া হয়েছে ফ্লায়ার। কিটি হককে সহায়তা করছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ বিনিয়োগ করেছেন এ উড়ুক্কু গাড়ির পেছনে। আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের শেষের দিকে কিটি হকের তৈরি ফ্লায়ারের প্রোটোটাইপ পাওয়া যাবে।

সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কিটি হকের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও উন্মুক্ত করা হয়। এরপরই উড়ুক্কু বাইক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রযুক্তি বিশ্বে। গতকাল সোমবার প্রকাশ হওয়া ওই ভিডিওতে উড়ুক্কু বাইক দেখানো হয়। এ ছাড়া চলতি বছরেই উড়ুক্কু গাড়ি বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিটি হক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ব্যক্তিগত উড়ুক্কু গাড়ির স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া তাদের লক্ষ্য। যখন সবার এ ধরনের গাড়ি চালানোর সুযোগ আসবে, তখন অমিত সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

কিটি হকের তৈরি উড়ুক্কু গাড়ির প্রোটোটাইপটিতে মাত্র একটি সিট রয়েছে। এতে দুটি পন্টুন ও মাকড়সার জালের মতো প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। পানির ওপরে ওই গাড়িটি উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য ভিডিওতে প্রচার করা হয়েছে। ওই এলাকার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কিটি হক।

যানটিতে আটটি পাখা আছে। এটি হেলিকপ্টারের মতো মাটি থেকে উঠতে পারে। এর ওজন ১০০ কেজির মতো। ঘণ্টায় ২৫ মাইল গতিতে ১৫ ফুট ওপর দিয়ে এটি উড়তে পারে। কিটি হক বলছে, ফ্লায়ার নতুন ইলেকট্রিক যান। এটি নিরাপদ, পরীক্ষিত। যুক্তরাষ্ট্রের হালকা উড়ুক্কু যানের নিয়ম মেনে ঘনবসতিহীন এলাকায় এটি চালানো বৈধ। এতে চালকের জন্য কোনো লাইসেন্স লাগে না। মাত্র দুই ঘণ্টার প্রশিক্ষণ যথেষ্ট। অবশ্য কিটি হকের ওয়েবসাইটে এ বাইক সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কিটি হকের উড়ুক্কু বাইক ফ্লায়ার

 

কিটি হকের প্রেসিডেন্ট সেবাসটিয়ান থ্রান এক টুইটে বলেছেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভবিষ্যৎ বদলাতে যাচ্ছে। ওই গাড়ি কিনতে তিন বছরের সদস্যপদ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লেখাতে ১০০ মার্কিন ডলার করে নিচ্ছে। যাঁরা আগাম ফরমাশ দেবেন, তাঁদের জন্য ছাড় থাকবে। এ বছরের শেষ দিকে এ বাইকের দাম ঘোষণা করা হবে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক মেইলে কিটি হক জানিয়েছে, উড়ুক্কু গাড়ি তৈরিতে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন অ্যারোভেলো নামের একটি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ক্যামেরন রবার্টসন ও টড রেইচার্ট। বিক্রির সময় প্রোটোটাইপ নকশার চেয়ে মূল নকশা আলাদা হতে পারে।

ওই গাড়ি চালিয়ে পরীক্ষা করেছেন ক্যামেরন মরিসে নামের এক ব্যক্তি। তিনি এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, এটা অনেকটাই উড়ুক্কু মোটরসাইকেলের মতো। সিটে বসে সামনের দিকে ঝুঁকে চালাতে হয়।

কিটি হক ছাড়াও উড়ুক্কু যান তৈরিতে কাজ করছে ইউরোপের প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস।

তথ্যসূত্র: এএফপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *